নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
রাজনীতি মানেই দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারের পাহাড় আর অলিগলি ছেয়ে যাওয়া প্যানা-ব্যানার—এমন চিরাচরিত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এক সাহসী ডাক দিলেন খুলনা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব। সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের প্যানা বা পোস্টারে যেন তার ছবি ব্যবহার করা না হয়।
খুলনার নান্দনিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং রাজনীতিকে ‘টাউট-বাটপার’ মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তার এই বিশেষ অনুরোধ।
স্মৃতিচারণ ও বর্তমানের প্রেক্ষাপট:
সদস্য সচিব তার বার্তায় বিগত আমলের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, আগে দেখা যেত সারা বছর কারণে-অকারণে শহর জুড়ে পোস্টার সাঁটানো হতো, যার বেশিরভাগই ছিল জনবিদ্বেষী বা নামসর্বস্ব নেতাকর্মীদের প্রচারণার হাতিয়ার। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব প্যানা-পোস্টার এখন আর সাধারণ মানুষ পছন্দ করে না। অকারণে শহর নোংরা করা অত্যন্ত বিরক্তিকর।”
ডিজিটাল প্রচারণায় গুরুত্বারোপ:
আসন্ন ঈদ ও স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতি-উৎসাহী কিছু নেতাকর্মী ইতিমধ্যে পোস্টার লাগিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
“স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। অথচ প্রচারণার নামে আমরাই যদি শহর নোংরা করি, তবে তা হবে স্ববিরোধী। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্ন ও ক্রিয়েটিভ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই কাগজের পোস্টারের বদলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারণায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
কঠোর নির্দেশনা ও দেশপ্রেম
তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে খুলনা মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো প্যানা বা পোস্টারে যেন তার ছবি ব্যবহার না করা হয়। রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার এই লড়াইকে তিনি তার ‘ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার এই বার্তার শেষে ছিল গভীর দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ— “সবার আগে বাংলাদেশ।”
তার এই সিদ্ধান্তকে খুলনার সাধারণ মানুষ এবং সচেতন সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি সব রাজনৈতিক নেতা এভাবে নিজ শহরকে ভালোবাসতেন, তবে আমাদের দেশটা আরও অনেক বেশি সুন্দর ও বাসযোগ্য হতো।
https://www.kaabait.com