• শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪
সর্বশেষ :
নিরাপদ খুলনা চাই এর মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা। নিরাপদ খুলনা চাই এর মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা বিকেলে সিইসির মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি দরজায় তালা লাগিয়ে’ বিএনপি নেতার ঘরে আগুন, ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, দগ্ধ আরও ৩ মেয়েকে নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর সকালে ফিরবেন তারেক রহমান তফসিল ঘোষণার পর নিজেই পোস্টার অপসারণ করলেন খুলনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজনে ওব্যাট থিংক ট্যাংক খুলনার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আরো ৩৬ টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি চাঁদা তুলতে গিয়ে ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৩ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকা-ময়মনসিংহে ট্রেন চলাচল বন্ধ

আইয়ুব আলীর ঝুপড়ি ঘরে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কমতি নেই

প্রতিনিধি: / ৩২৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আবু-হানিফ,বাগেরহাট অফিসঃ প্রবাদ আছে অভাব যখন দরজায় আসে, ভালোবাসা তখন জালানা দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে সেই ধারনাকে মিথ্যা প্রমান করে ঝুপড়ি ঘরে তীব্র অভাবের মধ্যেও ভালোবাসার মানুষের সাথে সংসার করে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এক দম্পতি। প্রকৃত ভালোবাসাকে অভাব দিয়ে যে ক্ষত-বিক্ষত করা যায় তারই অন্যন্য উদাহরন সৃষ্টি
করেছেন আইয়ুব আলী ও নাসরিন বেগম।
সরজমিনে বাগেরহাট পৌরসভার খারদ্বার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ঝুপড়ি ঘরে চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে
বাসবাস করেন ৬৫ বছর বয়েসী আইয়ুব আলী ও ৫৫ বছর বয়েসী নাসরিন বেগম দম্পতি। পেশায় দিনমজুর
আইয়ুব আলী প্রায় ১৭ বছর আগে একটি বাড়ীতে কাজ করতে দিয়ে দেখা পান নাসরিন বেগমের। প্রথম দেখাতেই
নাসরিন বেগমের প্রেমে পড়ে যান তিনি। দেন বিয়ের প্রস্তাব, সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান নাসরিন বেগম। শুরু
হয় তাদের সংসার জীবনের পথচলা। সংসারে প্রথম থেকেই ছিলো তীব্র অভাব, তারপর একে একে জন্ম হয় তিন
ছেলে ও এক মেয়ের। অভাব আরও তীব্র হতে থাকে তাদের সংসারে। কিন্তু এত অভাবও তাদের ভালোবাসার
দেয়ালকে ভাঙ্গতে পারেনি। উল্টো সময়ের সাথে সাথে আরও মজবুদ হয়েছে তাদের ভালোবাসা। এই বয়েসেও
আইয়ুব আলী তার স্ত্রীর মাথায় তেল দিয়ে দেন, পরম ভালোবাসায় চুলে গুজে দেন রক্ত জবা। নাসরিন বেগমও
সংসারের হাল ধরতে কাজ করেন অন্যের বাসায়, পালন করেন হাঁস-মুরগি ও ছাগল। সেলাই করে দেন আইয়ুব
আলীর ছেড়া জামা।
আইয়ুব আলীর স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, আইয়ুব আলী ও আমার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আইয়ুব আলীর প্রথম
স্ত্রী অসুস্থ্যতায় মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে। ওই সংসারে আইয়ুব আলীর আরও ৪টি ছেলে-মেয়ে
রয়েছে। আমার প্রথম সংসারে কোন ছেলে-মেয়ে না হওয়ার প্রথম স্বামী আমাকে তালাক দেয়। এরই মধ্যে প্রায়
১৭ বছর আগে আমি যে বাড়ীতে কাজ করতাম সেই বাড়ীতে কাজ করতে আসে আইয়ুব আলী। তখন আমাকে দেখে
পছন্দ হয়ে যায় তার। কিছু দিন কথা বলার পর সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে আমি রাজি হয়ে যাই।
পরবর্তিতে ওই বাড়ীর মালিক ও স্থানীয় লোকজন আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এই দীর্ঘ সংসার জীবনে আমাদের
তিন ছেলে ও একটি মেয়ে হয়েছে। এমনও দিন গেছে ছেলে-মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী না
খেয়ে রাতপার করেছি। এছাড়া প্রডন্ড শীত ও ঝড়-বর্ষার মধ্যে এই ঝুপড়ি ঘরটিতে আমাদের খুব কষ্ট করে
থাকতে হয়। একই খাটে সবার ঘুমাতে কষ্ট হওয়ার কারনে আমাদের মেঝো ছেলেকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে
দিয়েছি। তারপরও স্বামী প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই।
দিনমজুর আইয়ুব আলী বলেন, আমার আগের ঘরের চারটি ছেলে-মেয়ে। ডেমা ইউনিয়নের পঞ্চকরণ এলাকায়
আমার সামান্য কিছু জায়গা-জমি ছিলো যা প্রথম ঘরের সন্তানদের লিখে দিয়েছি। এখন আমার জায়গা-জমি
বলতে কিছুই নেই। আমার বয়েস বাড়ছে, এখন আর আগের মত কাজ করতে পারি না। আমার কিছু হয়ে গেছে
আমার ছোট ছোট এই বাচ্চাদের কি হবে, এই চিন্তায় থাকি সব সময়। আমি তো এখন ভূমিহিন একজন মানুষ,
তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমাকে একটু সহায়তার অনুরোধ জানাই।
জমির মালিক এ্যাড. খান বাদশা বলেন, আইয়ুব আলী খুবই দরিদ্র একজন মানুষ। আমার জায়গাতে এই ঝুপড়ি
ঘরটি তৈরী করে কোন মতে দিনপার করছে। কিন্তু এত অভাবের মধ্যেও আমি আইয়ুব আলীও নাসরিনের মধ্যে
কখনও ঝগড়া-বিবাদ বা মনমালিন্য হতে দেখিনি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যাতে হতদরিদ্র এই
পরিবারটিকে পূণবাসন করা হয়।
স্থানীয় নাসির শেখ বলেন, বর্তমান সমাজে যখন অভাবের কারনে মানুষের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেখানে
ব্যাতিক্রম আমাদের আইয়ুব আলী-নাসরিন দম্পতি। এত অভাবের মধ্যেও তারা একে-অপরকে কখনও ছেড়ে
যায়নি। যা আমাদের মত তরুন-যুবদের কাছে একটি উদাহরণ।

স্থানীয় সালেহা বেগম বলেন, এত কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও যে সংসার চালিয়ে নেয়া যায়। একে অপরকে
ভালোবাসা যায় তার দৃষ্টন্ত উদাহরণ আইয়ুব আলী ও নাসরিন দম্পতি। তারা আমাদের এলাকার লাইলি মজনু।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী
রয়েছে, যার মাধ্যমে আইয়ুব আলীকে জমি ও ঘর দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও সহায়তা করা সম্ভব। তবে
সে ক্ষেত্রে তাকে আমাদের কাছে আসতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com