• বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৯
সর্বশেষ :
খুলনাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী রাসেল শিকদার ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও খুলনা মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দীন আকন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা শাহীন পাটোয়ারী খুলনায় উদ্বোধনী দিনে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ১ হাজার নারী ১২ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ রমযানে মানব সেবায় ওব্যাট হেল্পার্স ৬০০ পরিবারকে মানবিক সহায়তা ওব্যাট হেল্পার্স ও হিউম্যানিটি’র দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চিংড়ি চাষে ভাগ্যবদল, ডুমুরিয়ার মারুফ এখন সফলতার রোল মডেল

শেখ মাহাতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা / ৯৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের কেওড়াতলার মারুফ সরদার এখন গলদা চাষে এক অনুকরণীয় সফল চাষি হিসেবে পরিচিত। একসময় মাছ চাষ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকলেও আজ তিনি নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।

 

মারুফ সরদারের ১২০ শতক জল আয়তনের ঘেরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫০ কেজি গলদা চিংড়ি, অর্থাৎ শতকে উৎপাদন সাত কেজিরও বেশি। শুধু গলদা নয়, পাশাপাশি তিনি সাদা মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এলাকার অন্যান্য চাষিরা যেখানে শতকে তিন থেকে চার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন পান, সেখানে মারুফের ঘের এখন সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে।

 

কখনো তিনি চিংড়ি চাষে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না। ঘেরের গভীরতা ছিল কম, বৃষ্টির সময় পানিতে তলিয়ে যেত, ফলে উৎপাদনও হত খুব কম। কিন্তু বর্তমানে তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ঘেরের গভীরতা এখন প্রায় পাঁচ ফুট, পাড়ের প্রস্থ করেছেন পাঁচ ফুটেরও বেশি। পুরো ঘের নেট দিয়ে ঘেরা, যা মাছের নিরাপত্তা ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
নিয়মিত তিনি ঘেরে চুন, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক প্রয়োগ করেন। পোনা ছাড়েন নিয়ম মেনে এবং ভালো মানের ফিড ব্যবহার করেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে এবং অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঘেরের যত্ন নেন।

 

চাষি মারুফ সরদার জানান,“আগে ঘেরের সঠিক ব্যবস্থাপনা জানতাম না। এখন মৎস্য অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি। নিয়মিত পানি পরীক্ষা, ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, ভালো মানের পিএল, মানসম্মত ফিড ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যা করাই আমার সাফল্যের মূল রহস্য।

 

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, মারুফ সরদার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী চাষি। তিনি নিয়মিত অফিসে এসে পরামর্শ নেন। তাকে মাছ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর তিনি একটি দুই দিনের ও একটি পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার সাফল্য অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণা।
বর্তমানে মারুফ সরদারের ঘের স্থানীয় চাষিদের কাছে এক নমুনা ঘের হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্যের গল্প এখন রুদাঘরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য চাষিরাও তার পথ অনুসরণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

ডুমুরিয়ার মাটি ও পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গলদা চাষে এভাবে এগিয়ে চলেছেন মারুফ সরদার — যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

মারুফ সরদারের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরামর্শ, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের মানুষও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com