• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৬
সর্বশেষ :
খালিশপুর থানা তাঁতীদলের উদ্যোগে মরহুম সোনা মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে খালিশপুর থানা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ। আবারো তীব্র বজ্রপাত সহ ভারী বর্ষনের সতর্কতা!! বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল খালিশপুর থানা শাখার উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতী দল সভাপতি সোনা মিয়া সরদার এর খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে খালিশপুর থানা তাঁতী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতীদলের সভাপতি মরহুম সোনা মিয়া সরদারের কবর জিয়ারত ও মরহুমের পরিবারের সার্বিক খোঁজ খবর ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে খুলনা মহানগর ও জেলা তাঁতীদলের নেতৃবৃন্দ খালিশপুর থানা তাঁতীদলের উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতী দল সভাপতি মরহুম সোনা মিয়া সরদার এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় খালিশপুর চিত্রালী মার্কেট বাজার জামে মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতীদলের সভাপতি সোনা মিয়া সরদারকে হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচী গ্রহনের লক্ষ্যে খালিশপুর থানা তাঁতীদলের প্রস্তুতি সভা শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ‘পোস্টারে আমার ছবি নয়’ – সদস্য সচিব রুবেল। এপ্রিলে সাঁড়াশি অভিযান, প্রস্তুত অপরাধীদের তালিকা! দালাল নির্ভরতা কমাতে না পারলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে”—রুবেলের সতর্কবার্তা

ডুমুরিয়ার নিউটন মণ্ডলের বাণিজ্যিক ভাবে কচু চাষ

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা প্রতিনিধি  / ১৯১ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
নিউটন মণ্ডলের বাণিজ্যিক ভাবে কচু চাষ

খুলনার দৌলতপুর বেসরকারি পাটকলে কাজ করেছেন প্রায় এক যুগ। একপর্যায়ে পাটের ধুলায় তিনি শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় পড়েন। পরে ওই কাজ ছেড়ে দেন। কিছু জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন ধান চাষ। লাভজনক না হওয়ায় জমির একটি অংশে স্থানীয় জাতের পানি কচুর চারা রোপণ করেন। এরপর থেকে আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তাঁর প্রতিবছর আয় লাখ টাকা।

 

পানি কচুর চাষ করে ভাগ্য বদলে যাওয়া এই কৃষকের নাম নিউটন মণ্ডল। তাঁর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের ঘোনা মাদারডাঙ্গা গ্রামে। খুলনার দৌলতপুর-শাহপুর সড়কের ঘোনা মাদারডাঙা গ্রাম ধরে সামনের দিকে এগোতে থাকলে সড়কের পাশে চোখে পড়ে পানি কচুর খেত। এটাই নিউটনের কচুক্ষেত।

 

 

নিউটন মণ্ডল বলেন, ২০০৮ সাল থেকে তিনি পানি কচু চাষ করছেন। গত বছর ২৫ শতক জমিতে কচু চাষ করে দেড় লাখ টাকার ওপর লাভ করেছেন। এ বছর লাখ টাকার ওপর কচুর লতি, ফুল ও কচু বিক্রি করেছেন। এখনো খেত থেকে ৭০-৭৫ হাজার টাকা আসবে।

 

আবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘেরের পাড় থেকে দেশি জাতের কিছু পানি কচুর চারা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে চারা রোপণ করা হয়। মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারির মধ্যে গাছ লাগানো শেষ হয়ে যায়। সারিবদ্ধভাবে তিন ফুট দূরত্বে কচুর চারা রোপণ করা হয়। এক ফুট গভীর করে কোদাল দিয়ে চাষ দেন তিনি। চারা লাগানোর পর জৈব ও রাসায়নিক সার দেন সুষমভাবে। রোপণের ৪৫ দিনের মাথায় লতি তোলা যায়। কচুগুলো ১০ ফুটের মতো লম্বা হয়। একেকটির ওজন হয় ২০-৩২ কেজি।

 

নিউটনের স্ত্রী স্মৃতিলতা মণ্ডল বলেন, ‘কচু চাষ করার পর থেকে আমার পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। টাকা জমিয়ে এবার গরুর খামার করেছি। এ বছর খামার আরও বড় করব।’ প্রতিদিন নিজস্ব ভ্যানে করে খুলনা শহরে নিয়ে কচু বিক্রি করেন নিউটন। এ জন্য মাসিক বেতনের একজন কর্মীও রয়েছে তাঁর। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও শুরু করেছেন বিক্রয় কার্যক্রম। ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক ক্রেতা তাঁর কাছে চাহিদার কথা জানান। তাঁরা খেত থেকে কচু কিনে নিয়ে যান। এ বছর প্রতি কেজি লতি ২২-৩৮ টাকা, প্রতিটি কচু আকারভেদে ৪০-১০০ টাকা এবং প্রতিটি ফুল ১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও মাসখানেক কচু বিক্রি হবে।

 

নিউটন বলেন, গত বছর এক লাখ টাকার ওপরে কচুর চারা বিক্রি করেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় চারা বিক্রি হয়েছে বরগুনার বামনা, রূপসা, যশোর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিটি চারার দাম তিন-চার টাকা। নিউটনের সাফল্য দেখে এলাকার কৃষকেরাও কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

 

রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক ব্রজনাথ বিশ্বাস বলেন, জমিতে ধান চাষ তেমন লাভজনক নয়। নিউটনের সহযোগিতা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই বছর ধরে জমিতে কচু চাষ করছি। গত বছর এক বিঘা জমিতে শুধু লাখ টাকার লতিই বিক্রি করেছিলাম। এ বছর আরও লাভ হবে।

 

ডুমুরিয়া ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিউটন মণ্ডলের দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ করছেন। তাঁদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কচু চাষে এখানকার অনেকের ভাগ্য খুলেছে।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com