• বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০
সর্বশেষ :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের খুলনা মহানগরের অন্তর্গত খানজাহান আলী থানার কমিটি গঠন বাজার কমিটির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কে খুলনা জেলা তাঁতী দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। নারী পাচারকারীর নতুন ফাঁদ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনা মহানগর তাঁতীদলের উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চুকনগরে অসহনীয় যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে সোচ্চার ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে খুলনা মহানগর তাঁতীদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও তৃষ্ণার্তদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যালাইন বিতরন খালিশপুর থানা তাঁতীদলের উদ্যোগে মরহুম সোনা মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে খালিশপুর থানা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ। আবারো তীব্র বজ্রপাত সহ ভারী বর্ষনের সতর্কতা!! বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল খালিশপুর থানা শাখার উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতী দল সভাপতি সোনা মিয়া সরদার এর খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে খালিশপুর থানা তাঁতী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আইয়ুব আলীর ঝুপড়ি ঘরে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কমতি নেই

প্রতিনিধি: / ৪১৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আবু-হানিফ,বাগেরহাট অফিসঃ প্রবাদ আছে অভাব যখন দরজায় আসে, ভালোবাসা তখন জালানা দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে সেই ধারনাকে মিথ্যা প্রমান করে ঝুপড়ি ঘরে তীব্র অভাবের মধ্যেও ভালোবাসার মানুষের সাথে সংসার করে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এক দম্পতি। প্রকৃত ভালোবাসাকে অভাব দিয়ে যে ক্ষত-বিক্ষত করা যায় তারই অন্যন্য উদাহরন সৃষ্টি
করেছেন আইয়ুব আলী ও নাসরিন বেগম।
সরজমিনে বাগেরহাট পৌরসভার খারদ্বার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ঝুপড়ি ঘরে চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে
বাসবাস করেন ৬৫ বছর বয়েসী আইয়ুব আলী ও ৫৫ বছর বয়েসী নাসরিন বেগম দম্পতি। পেশায় দিনমজুর
আইয়ুব আলী প্রায় ১৭ বছর আগে একটি বাড়ীতে কাজ করতে দিয়ে দেখা পান নাসরিন বেগমের। প্রথম দেখাতেই
নাসরিন বেগমের প্রেমে পড়ে যান তিনি। দেন বিয়ের প্রস্তাব, সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান নাসরিন বেগম। শুরু
হয় তাদের সংসার জীবনের পথচলা। সংসারে প্রথম থেকেই ছিলো তীব্র অভাব, তারপর একে একে জন্ম হয় তিন
ছেলে ও এক মেয়ের। অভাব আরও তীব্র হতে থাকে তাদের সংসারে। কিন্তু এত অভাবও তাদের ভালোবাসার
দেয়ালকে ভাঙ্গতে পারেনি। উল্টো সময়ের সাথে সাথে আরও মজবুদ হয়েছে তাদের ভালোবাসা। এই বয়েসেও
আইয়ুব আলী তার স্ত্রীর মাথায় তেল দিয়ে দেন, পরম ভালোবাসায় চুলে গুজে দেন রক্ত জবা। নাসরিন বেগমও
সংসারের হাল ধরতে কাজ করেন অন্যের বাসায়, পালন করেন হাঁস-মুরগি ও ছাগল। সেলাই করে দেন আইয়ুব
আলীর ছেড়া জামা।
আইয়ুব আলীর স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, আইয়ুব আলী ও আমার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আইয়ুব আলীর প্রথম
স্ত্রী অসুস্থ্যতায় মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে। ওই সংসারে আইয়ুব আলীর আরও ৪টি ছেলে-মেয়ে
রয়েছে। আমার প্রথম সংসারে কোন ছেলে-মেয়ে না হওয়ার প্রথম স্বামী আমাকে তালাক দেয়। এরই মধ্যে প্রায়
১৭ বছর আগে আমি যে বাড়ীতে কাজ করতাম সেই বাড়ীতে কাজ করতে আসে আইয়ুব আলী। তখন আমাকে দেখে
পছন্দ হয়ে যায় তার। কিছু দিন কথা বলার পর সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে আমি রাজি হয়ে যাই।
পরবর্তিতে ওই বাড়ীর মালিক ও স্থানীয় লোকজন আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এই দীর্ঘ সংসার জীবনে আমাদের
তিন ছেলে ও একটি মেয়ে হয়েছে। এমনও দিন গেছে ছেলে-মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী না
খেয়ে রাতপার করেছি। এছাড়া প্রডন্ড শীত ও ঝড়-বর্ষার মধ্যে এই ঝুপড়ি ঘরটিতে আমাদের খুব কষ্ট করে
থাকতে হয়। একই খাটে সবার ঘুমাতে কষ্ট হওয়ার কারনে আমাদের মেঝো ছেলেকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে
দিয়েছি। তারপরও স্বামী প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই।
দিনমজুর আইয়ুব আলী বলেন, আমার আগের ঘরের চারটি ছেলে-মেয়ে। ডেমা ইউনিয়নের পঞ্চকরণ এলাকায়
আমার সামান্য কিছু জায়গা-জমি ছিলো যা প্রথম ঘরের সন্তানদের লিখে দিয়েছি। এখন আমার জায়গা-জমি
বলতে কিছুই নেই। আমার বয়েস বাড়ছে, এখন আর আগের মত কাজ করতে পারি না। আমার কিছু হয়ে গেছে
আমার ছোট ছোট এই বাচ্চাদের কি হবে, এই চিন্তায় থাকি সব সময়। আমি তো এখন ভূমিহিন একজন মানুষ,
তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমাকে একটু সহায়তার অনুরোধ জানাই।
জমির মালিক এ্যাড. খান বাদশা বলেন, আইয়ুব আলী খুবই দরিদ্র একজন মানুষ। আমার জায়গাতে এই ঝুপড়ি
ঘরটি তৈরী করে কোন মতে দিনপার করছে। কিন্তু এত অভাবের মধ্যেও আমি আইয়ুব আলীও নাসরিনের মধ্যে
কখনও ঝগড়া-বিবাদ বা মনমালিন্য হতে দেখিনি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যাতে হতদরিদ্র এই
পরিবারটিকে পূণবাসন করা হয়।
স্থানীয় নাসির শেখ বলেন, বর্তমান সমাজে যখন অভাবের কারনে মানুষের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেখানে
ব্যাতিক্রম আমাদের আইয়ুব আলী-নাসরিন দম্পতি। এত অভাবের মধ্যেও তারা একে-অপরকে কখনও ছেড়ে
যায়নি। যা আমাদের মত তরুন-যুবদের কাছে একটি উদাহরণ।

স্থানীয় সালেহা বেগম বলেন, এত কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও যে সংসার চালিয়ে নেয়া যায়। একে অপরকে
ভালোবাসা যায় তার দৃষ্টন্ত উদাহরণ আইয়ুব আলী ও নাসরিন দম্পতি। তারা আমাদের এলাকার লাইলি মজনু।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী
রয়েছে, যার মাধ্যমে আইয়ুব আলীকে জমি ও ঘর দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও সহায়তা করা সম্ভব। তবে
সে ক্ষেত্রে তাকে আমাদের কাছে আসতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com