• রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৩৮
সর্বশেষ :
খালিশপুর থানা তাঁতীদলের উদ্যোগে মরহুম সোনা মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে খালিশপুর থানা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ। আবারো তীব্র বজ্রপাত সহ ভারী বর্ষনের সতর্কতা!! বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল খালিশপুর থানা শাখার উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতী দল সভাপতি সোনা মিয়া সরদার এর খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে খালিশপুর থানা তাঁতী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতীদলের সভাপতি মরহুম সোনা মিয়া সরদারের কবর জিয়ারত ও মরহুমের পরিবারের সার্বিক খোঁজ খবর ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে খুলনা মহানগর ও জেলা তাঁতীদলের নেতৃবৃন্দ খালিশপুর থানা তাঁতীদলের উদ্যোগে ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতী দল সভাপতি মরহুম সোনা মিয়া সরদার এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় খালিশপুর চিত্রালী মার্কেট বাজার জামে মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় ১০ নং ওয়ার্ড তাঁতীদলের সভাপতি সোনা মিয়া সরদারকে হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচী গ্রহনের লক্ষ্যে খালিশপুর থানা তাঁতীদলের প্রস্তুতি সভা শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ‘পোস্টারে আমার ছবি নয়’ – সদস্য সচিব রুবেল। এপ্রিলে সাঁড়াশি অভিযান, প্রস্তুত অপরাধীদের তালিকা! দালাল নির্ভরতা কমাতে না পারলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে”—রুবেলের সতর্কবার্তা

চিংড়ি চাষে ভাগ্যবদল, ডুমুরিয়ার মারুফ এখন সফলতার রোল মডেল

শেখ মাহাতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা / ১৪০ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের কেওড়াতলার মারুফ সরদার এখন গলদা চাষে এক অনুকরণীয় সফল চাষি হিসেবে পরিচিত। একসময় মাছ চাষ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকলেও আজ তিনি নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।

 

মারুফ সরদারের ১২০ শতক জল আয়তনের ঘেরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫০ কেজি গলদা চিংড়ি, অর্থাৎ শতকে উৎপাদন সাত কেজিরও বেশি। শুধু গলদা নয়, পাশাপাশি তিনি সাদা মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এলাকার অন্যান্য চাষিরা যেখানে শতকে তিন থেকে চার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন পান, সেখানে মারুফের ঘের এখন সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে।

 

কখনো তিনি চিংড়ি চাষে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না। ঘেরের গভীরতা ছিল কম, বৃষ্টির সময় পানিতে তলিয়ে যেত, ফলে উৎপাদনও হত খুব কম। কিন্তু বর্তমানে তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ঘেরের গভীরতা এখন প্রায় পাঁচ ফুট, পাড়ের প্রস্থ করেছেন পাঁচ ফুটেরও বেশি। পুরো ঘের নেট দিয়ে ঘেরা, যা মাছের নিরাপত্তা ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
নিয়মিত তিনি ঘেরে চুন, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক প্রয়োগ করেন। পোনা ছাড়েন নিয়ম মেনে এবং ভালো মানের ফিড ব্যবহার করেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে এবং অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঘেরের যত্ন নেন।

 

চাষি মারুফ সরদার জানান,“আগে ঘেরের সঠিক ব্যবস্থাপনা জানতাম না। এখন মৎস্য অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি। নিয়মিত পানি পরীক্ষা, ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, ভালো মানের পিএল, মানসম্মত ফিড ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যা করাই আমার সাফল্যের মূল রহস্য।

 

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, মারুফ সরদার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী চাষি। তিনি নিয়মিত অফিসে এসে পরামর্শ নেন। তাকে মাছ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর তিনি একটি দুই দিনের ও একটি পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার সাফল্য অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণা।
বর্তমানে মারুফ সরদারের ঘের স্থানীয় চাষিদের কাছে এক নমুনা ঘের হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্যের গল্প এখন রুদাঘরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য চাষিরাও তার পথ অনুসরণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

ডুমুরিয়ার মাটি ও পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গলদা চাষে এভাবে এগিয়ে চলেছেন মারুফ সরদার — যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

মারুফ সরদারের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরামর্শ, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের মানুষও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com