• শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৬
সর্বশেষ :
নিরাপদ খুলনা চাই এর মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা। নিরাপদ খুলনা চাই এর মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা বিকেলে সিইসির মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি দরজায় তালা লাগিয়ে’ বিএনপি নেতার ঘরে আগুন, ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, দগ্ধ আরও ৩ মেয়েকে নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর সকালে ফিরবেন তারেক রহমান তফসিল ঘোষণার পর নিজেই পোস্টার অপসারণ করলেন খুলনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজনে ওব্যাট থিংক ট্যাংক খুলনার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আরো ৩৬ টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি চাঁদা তুলতে গিয়ে ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৩ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকা-ময়মনসিংহে ট্রেন চলাচল বন্ধ

শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা

প্রতিনিধি: / ৩০০ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

ধর্ম: প্রতিটি মুসলিম নবজাতকের জন্য তার পিতা-মাতার ওপর বিশেষ কর্তব্য হলো অন্তত জন্মের সপ্তম দিবসে তার জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অর্থবোধক সুন্দর নাম রাখা। আল্লাহ হজরত আদম (আ.)-কে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে তাঁকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করলেন। এতে বোঝা গেল প্রতিটি জিনিসের নাম রাখা জরুরি। কেননা নামের ভালোমন্দের দ্বারা ব্যক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। সুতরাং প্রতিটি শিশুর সুন্দর নামের প্রভাবে যেন পরবর্তী জীবনে তার স্বভাব-চরিত্রে শুচিশুভ্রতা ও পবিত্রতা ফুটে ওঠে। ঠিক তেমনিভাবে ভুল নামেরও বিরূপ প্রভাব রয়েছে। হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমার দাদা হাজন প্রিয় নবীর খেদমতে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কী? তিনি বললেন আমার নাম হাজন (শক্ত) প্রিয় নবী বললেন, না, বরং তোমার নাম হওয়া উচিত সাহল (সহজ ও সরল)। তিনি উত্তরে বললেন, আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। এরপর আমাদের পরিবারে পরবর্তীকালে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগেই থাকত।’ (বুখারি)। তাই অর্থ না জেনে নাম রাখাও ঠিক নয়। এতে অর্থ বিকৃতি ও হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অধিকন্তু নাম রাখার ক্ষেত্রে অর্থ, প্রয়োগবিধি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ রাখা একান্তই জরুরি। বিদেশি ভাষার অর্থ জানা সচেতন শিক্ষিত ব্যক্তির সহায়তা নিয়ে, বিজ্ঞ আলেম- ওলামার কাছে জিজ্ঞাসা করে নাম রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তির নাম, সাহাবায়ে কেরাম ও আল্লাহর নবীদের নাম রাখা, যুগের অলি আবদাল গউস কুতুবের নামে নাম রাখা সবচেয়ে নিরাপদ, অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় পন্থা। এতে উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের নামের প্রভাবে শিশুর ব্যক্তিত্বের মধ্যেও প্রভাব পড়ার আশা রয়েছে। নিকৃষ্ট, কলঙ্কিত, সন্ত্রাসী ও গাদ্দার জাতীয় ব্যক্তিদের নাম বর্জন করা উচিত। অমুসলিমদের জাতীয়তা বহন করে এমন কোনো নামও কোনো মুসলিম শিশুর রাখা উচিত নয়। তাই তো ফেরাউন, নমরুদ, কারুন, শাদ্দাদ ও আবু জাহেলের নামে অমুসলিমরাও তাদের শিশুদের নাম রাখে না। ঠিক তেমনিভাবে পশু-পাখি, মাছ, গাছ, বৃক্ষলতা, আকাশ-বাতাস, পাহাড়-পর্বত, সাগর-নদী ইত্যাদি কোনো নিকৃষ্ট বস্তুর নামে নামকরণ করাও উচিত নয়। অনুরূপভাবে আল্লাহতায়ালার ৯৯ নাম যেগুলো তাঁর সঙ্গেই খাস, সেগুলো আবদ বা উবাইদ শব্দযোগ ছাড়া শুধু সে নামেই কারও নামকরণ করাও নাজায়েজ। যেসব নাম অন্যান্য জাতির উপাস্য ও দেবতাদের সঙ্গে খাস, যেমন আবদুল উজ্জা, আবদুল কাবা, দুর্গা, কালী প্রভৃতি নাম রাখাও নাজায়েজ ও হারাম। তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, ‘নবজাতকের পিতা-মাতার ওপর দায়িত্ব হলো জন্মের সপ্তম দিনে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা, আকিকা করা ও তার মাথা মু-ন করা।’ (তিরমিজি)। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম রয়েছে, ওইসব নামের সঙ্গে আবদ শব্দযোগে নাম রেখে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভুত্ব স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয় এমন নাম রাখা সর্বোত্তম। অনুরূপভাবে নবী-রসুল, সাহাবি ও অলি-বুজুর্গদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখাও উত্তম। অজ্ঞাতসারে বা অবহেলাবশত অর্থহীন বা বিদঘুটে কোনো নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর, শ্রæতিমধুর, অর্থবোধক ও ঐতিহাসিক নাম রাখা অবশ্যকর্তব্য। প্রিয় নবী (সা.) সাহাবিদের ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগের রাখা এ ধরনের কোনো নাম শুনতে পেলে মুসলিম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর নাম রেখে দিতেন। হজরত জুয়াইরিয়া (রা.)-এর ইসলামপূর্ব নাম ছিল ‘বাররাহ’। প্রিয় নবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে জুয়াইরিয়া রাখলেন। (মুসলিম) হজরত ইবনে ওমর বলেন, ‘প্রিয় নবী আসিয়ার নাম পরিবর্তন করে জামিলা রেখেছিলেন, কেননা আসিয়া অর্থ পাপী, আর জামিলা অর্থ রূপসী।’ (মুসলিম)। আমাদের প্রিয় নবীর নামে নামকরণ করে ‘মুহাম্মাদ’ নাম ধারণ করাও কল্যাণ ও বরকত অর্জনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আবু রাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কারও নাম মুহাম্মাদ রাখলে তাকে মারধর করবে না, আর তার অসম্মানও করবে না।’ প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, ‘যার তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করল, অথচ সে কারও নাম মুহাম্মাদ রাখল না, সে জাহিলের আচরণ করল।’ প্রিয় নবী আরও বলেন, ‘তোমাদের কারও ঘরে এক, দুই বা তিনজন মুহাম্মাদ থাকলে, তার কোনো অনিষ্ট হবে না।’ তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘মুহাম্মাদ নামে রহমত ও বরকত নিহিত আছে। যে ঘরে মুহাম্মাদ নামে লোক থাকবে, সে ঘরে বরকত হবে। যে সমাবেশে মুহাম্মদ নামে লোক থাকবে, সে সমাবেশে বরকত হবে।’ কারি তৈয়ব (রহ.) বলেন, ‘মানুষকে তার পোশাক দিয়ে চেনা যায় না বরং নাম ও আচরণ দিয়ে তার জাতীয়তা বোঝা যায়। কারও নাম বিকৃত করে সংক্ষিপ্ত আকারে ডাকাও উচিত নয়, কেননা এতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কাউকে তার নাম পরিবর্তন করে বিকৃত করে ডাকবে, আল্লাহর ফেরেশতারা তার ওপর লানত করেন। এ ক্ষেত্রে যাকে ডাকা হলো, খুশি না হয়ে বরং সম্মানের সঙ্গে তারও প্রতিবাদ করা উচিত।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com